কাবার মেঝে গরম হয় না কেনো? অলৌকিকতা নাকি অতি সাধারণ কিছু?

 


সৌদি আরবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কাবার মেঝে কখনোই গরম হয় না। বরং এই মেঝেতে শান্তির পরশ মেলে হাজীদের।

সরাসরি সূর্যের তাপেও কিভাবে এই জায়গা এতো শীতল থাকে তা নিয়ে অনেক সময়ই প্রশ্ন জাগে হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা ব্যক্তিদের।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রশ্নের জবাব লুকিয়ে আছে এখানকার মার্বেল পাথরের মধ্যেই।

কাবা শরীফের চত্বরে বেছানো হয়েছে পৃথীবীর এমন এক বৈচিত্র‌্যময় মার্বেল পাথর যা শুধুমাত্র পাওয়া যেতো গ্রিসের একটি পাহাড়েই।

পুরো বিষয়টির মধ্যে লুকিয়ে আছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি ঘটনা।

১৯৮৫ সালে বাদশাহ ফাহাদের আমলে বিন লাদেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় মক্কা ও মদিনা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

সে সময় এই প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মিশনের অন্যতম প্রকৌশলি ড. মোহাম্মদ কামাল ইসমাঈল।

তিনি কাজটি গ্রহণ করার পর লক্ষ্য করলেন কাবা শরীফ চত্তর প্রচণ্ড গরমে অসহণীয় হয়ে থাকে। এটি ছিল হাজীদের জন্য অন্যান্ত কষ্টকর।

শেষে অনেক খোঁজাখুজি করে আশ্চর্য এক সমাধান বের করলেন স্থপতি কামাল।

অনুসন্ধানে তিনি গ্রিসে একটি ছোট পাথরের পাহাড়ের সন্ধান পেলেন। এই পাথরের পাহাড়ের বৈশিষ্ট্য হলো এর পাথরগুলো সব সময় ঠাণ্ডা থাকে। কোন তাপ অথবা রোদ এটি ভেদ করে ভেতরে যেতে পারে না।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই পাহাড়ের অর্ধেকটা তিনি কিনে নিলেন। এবং পাথরগুলো কেটে কেটে মক্কায় নিয়ে আসা হলো।

পাথর স্থাপনের পর দেখা যায় বাস্তবেই এটি কাজ করছে।

এরপর থেকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও হাজিরা খালি পায়ে কাবা শরীফ অত্যন্ত শান্তিতে তাওয়াফ করতে পারেন।

এরপর কেটে আরো যায় ১৫ বছর। তারপরেও যখন কাবার সেই পাথরে গরম হলোরা তখন বাদশাহ ফাহাদ মদিনা শরীফেও একি ধরনের পাথর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু ততোদিনে দেখা যায় ওই পাহাড়ের বাকি পাথরগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। শেষে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় বিক্রি হওয়া পাথরগুলো কিনে নিয়েছে সৌদির একটি কোম্পানি। 

তারা বিনামূল্যে তা মদিনার জন্য দান করতে রাজি হন। এবং সেই থেকে এখনো একিরকম আছে মক্কা ও মদিনার চত্তর।

কোনো অলৌকিকতা নয়, বরং এই পাথরের জন্যেই ঠাণ্ডা থাকে মক্কা-মদিনার মেঝে।

সোর্স:

১. https://blog.dil.com.bd/2021/04/গরমের-মাঝেও-মক্কার-মার্ব/

২. https://www.jagonews24.com/international/news/206830